করোনা পরীক্ষার দরকার নেই। গন্ধ শুঁকে প্রশিক্ষিত কুকুরই খুঁজে দিচ্ছে করোনা আক্রান্তকে। ব্রিটেনে এক গবেষণাপত্রে এই তথ্যই উঠে এসেছে। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন (এলএসএইচটিএম)-এর নেতৃত্বে চ্যারিটি মেডিক্যাল ডিটেকশন ডগ এবং ডুরহাম বিশ্ববিদ্যালয় এই গবেষণাটি চালিয়েছে।
তাতে দেখা যাচ্ছে, ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে আক্রান্তকে চিহ্নিত করতে সক্ষম এই প্রশিক্ষিত কুকুরগুলি। গবেষকদলের দাবি, অনেকেই উপসর্গহীন সংক্রমণে আক্রান্ত। গায়ের গন্ধ শুঁকে তাঁকে চিহ্নিত করছে কুকুরগুলি। এছাড়া, করোনার একাধিক স্ট্রেইন নিয়েও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ভাইরাল লোড যাই হোক না কেন, নয়া দুই স্ট্রেইনে আক্রান্তদের
হদিশ পেতেও কার্যকরী এই সারমেয়রা।
এই গবেষণাপত্র প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
গোটা গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন এলএসএইচটিএম-এর রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জেমস লোগান। তিনি বলেন, করোনার নয়া স্ট্রেইনে তুমুল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই পরীক্ষার গতি বাড়ানোর দরকার। এই পরিস্থিতিতে
কুকুরগুলি গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করতে পারে।
গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ের সারমেয়দের কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। গন্ধ শুঁকে কোভিড রোগীদের চিহ্নিত করার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে মেডিক্যাল ডিটেনশন ডগস-এর একটি টিম। তারা আক্রান্তদের মাস্ক, মোজা, টি-শার্ট জোগাড় করেছিল। সবমিলিয়ে ৩ হাজার ৭০০-র বেশি নমুনা সংগ্রহ করে তারা। বেশ কয়েকদফা প্রশিক্ষণের পর সিংহভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্তদের চিহ্নিত করছে সক্ষম হয়েছে কুকুরগুলি।
গবেষক দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, দুটি কুকুর ১৫ মিনিটে ৩০০-র বেশি যাত্রী স্ক্রিনিং করতে সক্ষম। এই প্রক্রিয়ায় কেউ চিহ্নিত হলে পরে তার আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করা যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে মেডিক্যাল ডিটেকশনস ডগসের চিফ সাইন্টিফিক অফিসার ডাঃ ক্লারা গেস্ট বলেন, করোনা মোকাবিলায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে কুকুরও। এই গবেষণায় তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ